বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সি আই কর্মচারীদের অধিকাংশের দুর্নীতিতে সেবা বঞ্চিত নগরবাসীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা, বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অঞ্চল-২-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তদারককারীর দায়িত্বে থাকা মো. ইউনুস আলী। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে একাধিক সড়ক, গলি ও খালের আশপাশে ময়লা জমে থাকছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কোরবানির ঈদের দুই দিন আগে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় মো. ইউনুস আলীকে ‘দক্ষ-অদক্ষ সিআই’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই দায়িত্বের সূত্র ধরে নগর ভবন থেকে তাকে অঞ্চল-২-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তদারককারীর দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারককারীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে কমলাপুর ও আশপাশের এলাকা, গোপীবাগের বিভিন্ন অলি-গলি এবং জসিমউদ্দিন রোডে প্রায়ই ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না করায় কোথাও কোথাও সড়কের পাশে ও বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লার স্তূপ তৈরি হচ্ছে।

এতে একদিকে যেমন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ময়লা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বর্জ্য পড়ে থাকায় পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা যাচ্ছে টিটি পাড়া ও মেথরপট্টি এলাকায়। ওয়াসার অফিসসংলগ্ন এলাকা এবং খালের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হলে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পড়ে থাকার কথা নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কোথাও ময়লা পরিষ্কার বা ড্রেন পরিষ্কারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কেউ কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। নিয়মিত সিটি করপোরেশন সেবার অংশ হিসেবে বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এসব কাজের জন্য আলাদাভাবে টাকা চাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, টাকা না দিলে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। ফলে সাধারণ মানুষকে একদিকে ময়লা-আবর্জনার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপও নিতে হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে মো. ইউনুস আলীর দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অঞ্চল-২-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেলিম ও সওকত মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মো. ইউনুস আলীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম নেই।

তিনি বলেন, “আমি সব ঠিকমতো কাজ করি। তাছাড়া ইউনিয়নের বড় বড় কর্মকর্তারা আমার কাছের লোক, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে নগরবাসীর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানও সরাসরি জড়িত।

তাদের দাবি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করা হোক। একই সঙ্গে বর্জ্য ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এলাকাবাসী আরও বলছেন, নগরবাসীর কাছ থেকে নিয়মিত সিটি করপোরেশন সেবার জন্য কর ও বিভিন্ন ধরনের ফি নেওয়া হয়। তাই সেই সেবার আওতায় থাকা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা সেবা দিতে গাফিলতির অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করবে এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর, গোপীবাগ, জসিমউদ্দিন রোড, টিটি পাড়া ও মেথরপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ও কার্যকর বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *