ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশু জবাই, চামড়া সংরক্ষণ ও বিনামূল্যে লবণ বিতরণ বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই, চামড়া সংরক্ষণ এবং সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে লবণ বিতরণ বিষয়ে জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পশু জবাই নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার না করা এবং সংরক্ষণে অবহেলা।

তিনি আরও জানান, এ বছর সরকার চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমকে সফল করতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্ধারিত মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে লবণ ব্যবহার করা হলে চামড়া দীর্ঘ সময় ভালো অবস্থায় রাখা সম্ভব হবে এবং শিল্পখাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। অন্যথায় পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, যা ঈদের আনন্দকে বিঘ্নিত করে। এ বিষয়ে ইমাম, মসজিদ কমিটি, মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ভেটেরিনারি সার্জন ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং সংরক্ষণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

তিনি আরও জানান, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ায় সাধারণত ৮ থেকে ১০ কেজি এবং ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার করতে হবে। লবণ ভালোভাবে চামড়ার পুরো অংশে মিশিয়ে ছায়াযুক্ত ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করলে চামড়া দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চামড়া সংরক্ষণ, পশু জবাইয়ের স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম এবং ঈদ পরবর্তী চামড়া ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পরে উপস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিনিধিদের মাঝে বিনামূল্যে লবণের বস্তা বিতরণ করা হয়, যা ঈদ মৌসুমে চামড়া সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, চামড়া ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, ঈদের আগে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং মসজিদের খুতবার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। পাশাপাশি বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানানো হয়।

এ ধরনের উদ্যোগ ঈদ-উল-আযহার সময় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *