নাছিমা খাতুন সুলতানা:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরআলগী গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ক্ষোভ ও আতঙ্কে রয়েছেন। সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ—চেয়ারম্যান সেলিমের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়।
জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রোজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ খান-এর ছেলে মোঃ সুলতান উদ্দিন খানের পরিবারের সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন মহিলা সাবিনা আক্তার, মল্লিকা বেগম এবং সুমন খানসহ আরো কয়েকজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় সাবিনা আক্তারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
হামলার পরদিন এই ঘটনায় সুমন খান বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিমসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় এটি মামলা নং ০৬ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে—মামলা তুলে নিতে তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ আদালতে চলমান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকরা সরজমিনে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী সত্যতা স্বীকার করে এবং চেয়ারম্যানের বিরোধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি—ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়া, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের জীবন-সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে—যেকোনো সময় এলাকায় আবারও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ এবং নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনার আরও বিস্তারিত আসছে…