ঈশ্বরগঞ্জে শিপন হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মামলার বাদী

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর টানমলামরী গ্রামের যুবক শিপন হত্যা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের পরিবার। তারা দাবি করেছেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা বারবার থানাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে ২০২৬ (রোববার) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর টানমলামরী এলাকায় শিপনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী চর আলগী আটাপাড়া গ্রামের মৃত শামছুল ইসলামের ছেলে মো. আশিকুর রহমান (আশিক) এবং তার সহযোগীরা এ হামলায় অংশ নেয়।

হামলার সময় শিপনসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিপনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজন মো. রমজান আলী বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আনোয়ারুল হাসান খান (সেলিম)-সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ঈশ্বরগঞ্জ থানার মামলা নং-৭ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পেছনে পূর্ববিরোধের জের রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, ঈদের দিন বিকেলে নিহত শিপনের বোন ও ভাই বালুঘাট এলাকায় বেড়াতে গেলে সেখানে আশিকুর রহমান আশিক ও তার সহযোগীরা ওই তরুণীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিপন প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে সেই বিরোধের জের ধরেই হামলা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মামলার আসামিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামিসহ অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এতে তারা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে সাক্ষী ও বাদীপক্ষ আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে নিহতের স্বজনরা ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব তদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *