কাঁঠালিয়ায় কোটি টাকার ব্রিজে কাঠের সাটারিং, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধার অভিযোগ

মোঃ মেহেদী হাসান:

ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেচরি গ্রামে বান্দাকাটা-কৈখালী সংযোগ সড়কে একটি ছোট নালার ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের একটি ব্রিজ। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এই নির্মাণকাজে বড় ধরনের নিয়মবহির্ভূত কাঠামোগত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটির নির্মাণকাজে শতভাগ লোহার (স্টিল) সাটারিং ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজের শুরুতে মাত্র আনুমানিক ২০ শতাংশ লোহার সাটারিং ব্যবহার করা হলেও বাকি পুরো অংশেই ব্যবহার করা হয়েছে মানহীন কাঠ ও বাঁশের সাটারিং। সম্প্রতি এই ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অপরিকল্পিত ও দুর্বল কাঠের সাটারিং ব্যবহারের ফলে সদ্য ঢালাই করা ব্রিজটির ভারসাম্য যেকোনো মুহূর্তে নষ্ট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে তদারককারী প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, ঢালাইয়ের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাইটে উপস্থিত ছিলেন। ঢালাইয়ে কাঠ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে এক কর্মকর্তা বলেন, “কিছু কিছু জায়গায় কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।” তবে সরকারি নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী শতভাগ স্টিল সাটারিং ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে কাঠের ব্যবহার মেনে নেওয়া হলো—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি।

ঘটনার অনুসন্ধানে ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা যখন ঘটনাস্থলে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান, তখন বাধার মুখে পড়েন। অভি নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাইট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু তা-ই নয়, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে তিনি নিজের মোবাইল দিয়ে পাল্টা সাংবাদিকদের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একটি ছোট নালার ওপর বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ব্রিজটির নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *