Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
কাস্টমস কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

কাস্টমস কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ লাভ এবং দীর্ঘ চাকরি জীবনে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা একটি অভিযোগপত্রে এ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ (আইডি: ৩০০১৬৮) রাজনৈতিক প্রভাব ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি লাভ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সে সময়কার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮তম বিসিএসের ভাইভা পরীক্ষার ফলাফলে মোট ২ হাজার ১৯০ জনকে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত নিয়োগের আগে ভেরিফিকেশন পর্যায়ে এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এর প্রতিবেদনে তার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ অক্টোবর ২০১০ তারিখের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত গেজেট থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক পুনঃপ্রতিবেদন নেওয়া হয় এবং প্রায় ১৪ মাস পর ৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুল্ক ও আবগারী ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে তার অবস্থান ছিল শেষের দিকের অন্যতম।

দায়ের করা অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত প্রায় ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি রাজধানী ঢাকায় দুটি বাড়ি, অন্তত ১০টি ফ্ল্যাট, একাধিক প্লট, দোকান, কয়েক বিঘা জমি এবং বিপুল অঙ্কের ব্যাংক আমানতের মালিক হয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ, তার স্ত্রী খোদেজা মোমেন এবং পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকে অর্ধশতাধিক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে কয়েক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *