কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক পর্নোগ্রাফি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-২, এসআরবি-১৪, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার সরারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে আটক হন। এতে ওই নারী চরম পারিবারিক ও আর্থিক সংকটে পড়েন। তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেন রফিকুল ইসলাম। তিনি তার বন্ধু এবং স্থানীয় সমবায় অফিসের ম্যানেজার রায়হান মিয়ার (৩৬) অফিসে ওই নারীর একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেন।
কাজের সুবাদে মামলার ১ নম্বর আসামি রায়হান মিয়া ভুক্তভোগী নারীকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে গত ১৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখ বিকেলে অফিসকক্ষের ভেতর ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রায়হান। এরপর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং কৌশলে আপত্তিকর ছবি ধারণ করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম সেই আপত্তিকর ছবিগুলো তার নিজস্ব আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, কিশোরগঞ্জে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে বাজিতপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (৯/১) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৯) রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে সরারচর এলাকা থেকে ২ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।