মোঃআনজার শাহ
পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোভাযাত্রা, সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বুধবার সকালে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পালিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস।
বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিরুজ্জামান, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবু রায়হান প্রমুখ।
“জুলাই আন্দোলন আমাদের নতুন বাংলাদেশ দিয়েছে” আবেগঘন বক্তব্যে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি সরাসরি মাঠে নেমে আন্দোলনে অংশ না নিলেও ৫ আগস্টের দুই দিন আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও একজনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, আর সেই দুশ্চিন্তায় তাঁর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়তেন এই আশঙ্কায় যে পুলিশ তাঁদের বাসা ঘেরাও করে ফেলতে পারে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনই দেশবাসীকে উপহার দিয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ।
শোভাযাত্রায় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন জেলা পরিষদের:
অন্যদিকে সকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার। এতে অংশ নেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মদ জাকারিয়া, নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আফসার সায়েমসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।