স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা ইউনিয়নের আমিরাবাগ বাদাম গাছতলা এলাকায় রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নিয়ম-কানুন ও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করে ‘হক টাওয়ার’ নামে একটি ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নির্ধারিত নকশা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের বিষয়টি নিশ্চিত না করেই ভবনটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরাবাগ বাদাম গাছতলা এলাকায় বর্তমানে ‘হক টাওয়ার’ নামে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে কি না—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, একটি ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। ভবনের উচ্চতা, সীমানা থেকে প্রয়োজনীয় জায়গা ছাড়, রাস্তার প্রশস্ততা, আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, পার্কিং সুবিধা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নির্মাণবিধির আওতায় পড়ে। কিন্তু ‘হক টাওয়ার’-এর ক্ষেত্রে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করছেন। ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব বিষয় পরিষ্কার নয়। তাদের মতে, ভবন নির্মাণের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি করা প্রয়োজন। পরে নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে কোনো অনিয়ম শনাক্ত হলেও ব্যবস্থা নেওয়া জটিল হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ও বিধিবহির্ভূত ভবন নির্মাণ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময় রাজউক অভিযান পরিচালনা করে অনুমোদনহীন স্থাপনা ও নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে জিনজিরা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ মডেল টাউন এলাকায় অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের অভিযান পরিচালনার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে দ্রুত নগরায়ণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মিত হচ্ছে। এসব ভবনের নির্মাণকাজ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা না হলে ভবিষ্যতে নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সরু রাস্তা, অপর্যাপ্ত পার্কিং এবং ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা না রাখার মতো বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, ‘হক টাওয়ার’ নির্মাণে যদি সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আর যদি অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়রা আরও জানান, নির্মাণাধীন ভবনটির উচ্চতা, ভবন থেকে সীমানা পর্যন্ত নির্ধারিত দূরত্ব, রাস্তার জায়গা, পার্কিং ব্যবস্থা, অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নির্মাণ অনুমোদন—এসব বিষয় সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবনটির নির্মাণকাজ রাজউকের জোন-৫-এর আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জোন কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্মাণের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কাজ হয়ে থাকলে তা এখনই বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের করে জননিরাপত্তা ও নগর পরিকল্পনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ‘হক টাওয়ার’ নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমোদন ও নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।