খুবির ৪ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আজমুল হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল (খাজা হল)-এর বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুল হোসেনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই মেসের চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আজমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজমুল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে নিহত আজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও একটি অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তাদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যে ফোন নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের করা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হরিণটানা থানা পুলিশ।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা চারজনই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ওসি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আজমুল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগে থেকেই ঝামেলা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলেও জানান তিনি।

তবে আজমুল হোসেনকে কীভাবে মারধর করা হয়েছিল এবং তার চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে করা এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার পর ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের ভূমিকা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আজমুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কেও আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *