খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড় — বৃদ্ধ ভুক্তভোগীর নামজারি বাতিল নিয়ে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে আবারও ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা জোহরা নাছরীনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং তা না পেয়ে নামজারি আবেদন বাতিলের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আবদুল মজিদ (পিতা: মৃত মহব্বত আলী), গ্রামের বাড়ি মুগুর্জী, ডাকঘর শরাফতি, থানা বরুড়া, জেলা কুমিল্লা—তিনি একজন অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। অভিযোগে জানা যায়, বরুড়া উপজেলার মগজী মৌজার ৯২৮ নম্বর বিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে জমি ক্রয়ের পর তিনি গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নামজারি ও জমাখারিজের জন্য আবেদন করেন (আবেদন নং ৯৭৩৪০০৩, মোকদ্দমা নং ৭৭৪৬/২৫-২৬)।

অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোহরা নাছরীন দ্রুত কাজ সম্পন্নের আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার নামজারি আবেদনটি অনলাইনে বাতিল করে দেওয়া হয়।

বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—উক্ত খতিয়ানে ৫৭২৭ নম্বর দাগ নেই এবং মালিকানার কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, উক্ত দাগ নম্বর খতিয়ানে বিদ্যমান রয়েছে এবং আবেদনকালে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল।

একজন অসুস্থ বৃদ্ধের সঙ্গে এমন আচরণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য নতুন কিছু নয়, তবে প্রকাশ্যে এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এদিকে ভুক্তভোগী পুনরায় নামজারির জন্য আবেদন করেছেন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা জোহরা নাছরীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার অজান্তে কোনো কিছু হয়ে থাকলে সে বিষয়ে আমি অবগত নই। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “এ ধরনের বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ এলে অবশ্যই যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *