আব্দুল্লাহপুরে চাকরির ফাঁদ: সিকিউরিটি ব্যবসার আড়ালে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর উত্তরা এলাকার আব্দুল্লাহপুরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সিকিউরিটি ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অভিযোগে জানা যায়, উত্তরা সেক্টর-৯ এর ৭/ডি রোডের একটি বাসার ৪র্থ তলায় ‘সেলস অফিস-০৪’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে চক্রটি। মূলত সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের কথা বলে তারা বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এসব বিজ্ঞাপনে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উঠে এসেছে রবিউল ইসলাম, মাসুদ রানা এবং শান্ত গঙ্গা নামের কয়েকজনের নাম। তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে আগ্রহী প্রার্থীদের যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করে। পরে প্রার্থীদের ঢাকায় এনে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়—যেমন প্রশিক্ষণ ফি, ইউনিফর্ম খরচ, সিকিউরিটি ডিপোজিট ইত্যাদি।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন এক জায়গায় অবস্থান করে না। কিছুদিন পরপর অফিস পরিবর্তন করে তারা নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। ফলে প্রতারণার শিকার হলেও অনেকেই তাদের খুঁজে পান না।

অভিযোগ রয়েছে, চক্রটির অন্যতম সদস্য মাসুদ রানা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার নাম ব্যবহার করে প্রার্থীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি স্থানীয় থানার সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে থাকেন, যা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ভীতি ও নির্ভরতার এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের অভিযোগের কথা জানান। তাদের মতে, প্রায়ই নতুন নতুন মুখ ওই অফিসে যাতায়াত করতে দেখা যায়, যাদের অধিকাংশই গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে আসা চাকরিপ্রার্থী।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে প্রতারিত না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *