স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ডি-১-এর ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম। নানা সময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামনে এলেও এর বিপরীতে শহিদুল ইসলামের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা পৌঁছে দেওয়া। এ কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং উপকারভোগীরা যাতে নির্ধারিত পণ্য যথাযথভাবে পান, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও তৎপরতার ওপর কর্মসূচিটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিল্লা এলাকায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার দেলোয়ারের ট্রাকে চাল ও আটা বিক্রির কার্যক্রম চলছিল। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছে যায়। সেখানে দাবি করা হয়, ডিলার দেলোয়ার বরাদ্দকৃত চাল ও আটা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডি-১-এর ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলামের নজরে আনা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান। তিনি বলেন, তিনি নিজেই মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকি করছেন। ফলে ডিলার পণ্য নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।
শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “আমি ঘটনাস্থলে রয়েছি। চাল ও আটা বিক্রির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট স্থানে যোগাযোগ করে কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হন। একই সঙ্গে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে সাংবাদিকদের দেখানো হয়, ডিলার দেলোয়ার নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগীদের মধ্যে চাল ও আটা বিক্রি করছেন। এতে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা যাচাই হয় এবং প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই না করে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে শহিদুল ইসলাম দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার মাধ্যমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে উপকারভোগীদের স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলেও সেটি যাচাই করে সত্যতা প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ ভুল তথ্যের কারণে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়েও মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও তদারকি থাকলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় এবং তারা নির্ধারিত পণ্য যথাযথভাবে পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত হন।
শহিদুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে প্রশংসা করে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মাঠে থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু অফিসে বসে নয়, সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে চাল ও আটা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সঠিক তদারকি অত্যন্ত জরুরি। কারণ সরকারের এই কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোই এর মূল লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে একদিকে যেমন অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি কোনো ভুল তথ্য বা অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত প্রকৃত তথ্য সামনে আনা যায়।
মঙ্গলবারের ঘটনাটিও তার একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিলার দেলোয়ার চাল ও আটা নিয়ে পালিয়ে গেছেন—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে সরাসরি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন এবং ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে শুধু নীতিমালা ও বরাদ্দ থাকলেই হয় না; মাঠপর্যায়ে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার তৎপরতা। শহিদুল ইসলামের মতো কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে থেকে কার্যক্রম তদারকি করলে সরকারি খাদ্য সহায়তার প্রকৃত সুফল নিম্নআয়ের মানুষের কাছে পৌঁছানো আরও সহজ হবে।
সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য পরিচালিত সরকারি কর্মসূচিকে কার্যকর রাখার যে প্রচেষ্টা শহিদুল ইসলাম করছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সহায়তার সুফল যথাযথভাবে পাবেন।