গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ৪৪ প্রকল্পে বরাদ্দ ৩,৫১৪ কোটি টাকা

মোঃ আনজার শাহ

২০২৬-২৭ অর্থবছরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান ৪৪টি প্রকল্পে মোট ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। সংস্থাটির ছয়টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপিসহ কমিটির সদস্য, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শহরাঞ্চলে খেলার মাঠ ও পার্কের সংকট নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি মডেল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পুরান ঢাকার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের কথাও বৈঠকে জানানো হয়।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বর্গফুট ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলোর ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ ছাড়া ৪২টি জেলায় সরকারি ভবনের ভূমিকম্প সহনশীলতা নির্ণয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
পরিত্যক্ত ও বিতর্কিত প্লটের জটিলতা নিরসনে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ন্যায্যতা ও আইনের ভিত্তিতে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিদখলদারদের কবল থেকে জাতীয় সম্পত্তি উদ্ধারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ল্যান্ড ব্যাংক বা ভূমি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ-সংক্রান্ত অটোমেশন কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া চলমান কক্সবাজার মাস্টারপ্ল্যান আরও উন্নয়নমুখী রূপ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকের বিবিধ আলোচনায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বর্ষাকালে পানি পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সভাপতি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে অংশ নেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মো. মোশারফ হোসেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও ফেরদৌসী আহমেদ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *