গৌরীপুরে দুলাল ফকিরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের রাইশিমূল গ্রামে মো. দুলাল ফকিরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুলাল ফকিরের মেয়ে মোছা. আঁখি আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের মো. শহীদুল্লাহ ফকিরের স্ত্রী মোছা. হাজেরা আক্তার খাতুনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগী দুলাল ফকিরের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর মো. শহীদুল্লাহ ফকিরসহ তার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মারধরেরও অভিযোগ রয়েছে।

দুলাল ফকির বলেন, “আমার ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকেন। বাড়িতে পর্যাপ্ত পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিয়েই প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।”

তিনি আরও জানান, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাড়ির নারী ও শিশুদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও হামলা বা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

দুলাল ফকির বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ ফকির বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও লুটপাটের পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের জের ধরে বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *