মোঃ হাসান আলী:
ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের (মাগুরিয়া চাওনা) বাসাবাইদ এলাকায় এক অভিভাবকের নেককারি আচরণের অভিযোগে স্থানীয় পরিবারে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জাহিদুল ইসলামের পরকীয়ার কারণে তার বাবা মজনু মিয়া স্ত্রী সাজেদা এবং দুই সন্তানকে মারধর করে ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাচা নজরুল ইসলামের সহযোগিতায় জাহিদুল ইসলাম প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরব প্রবাসে যান। সেখানে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে এক সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই জাহিদুল ইসলাম তার ফুফাতো বোন সালমার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করেন। জানা যায়, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমাকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরব চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
সালমা জানান, তাদের বিয়ে কোট ম্যারেজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এ খবর শুনে জাহিদুল ইসলামের বাবা মজনু মিয়া তার স্ত্রী সাজেদা এবং দুই সন্তানকে মারধর করেন। শুধু তাই নয়, তারা সকলের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সাজেদা জানান, “আমি দুই সন্তান নিয়ে আজ কোথায় যাবো, আল্লাহ ছাড়া আমার আর কোনো সহায় নেই। শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমরা দিন কাটাচ্ছি।” তার দুঃখ ও হতাশা স্পষ্ট। তিনি আইনের মাধ্যমে ন্যায্য সমাধান চাচ্ছেন।
চাচা নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ভাতিজা জাহিদুলকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য টাকা-পয়সা সহায়তা দিয়েছিলেন। প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকভাবে চললেও পরে তিনি জানতে পারেন, জাহিদুল তার বোনের মেয়েকে বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রী সাজেদা ও তাদের সন্তানদের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন না। “এভাবে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে, এতে অসহায় সাজেদা আজ মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছেন না,” বলেন নজরুল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আল আমিন হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, দুই পরিবারকেও ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে পারে। পরিবারের অসচেতনতা এবং ব্যক্তিগত লোভই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।” সাবেক ইউপি সদস্য নরুল ইসলামও সমাধানের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে সাজেদা তার পরিবার নিয়ে ঘাটাইল থানায় অভিযোগ করেছেন।
ঘাটাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পারিবারিক বিরোধ এবং পরকীয়ার কারণে এমন ঘটনা যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে আরও বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাজেদা ও তার সন্তানরা বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন এবং তারা আইনের সহায়তা ও ন্যায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।