চট্টগ্রামের শীর্ষ পাঁচ সরকারি কলেজে বিতর্কিত অধ্যক্ষদের দাপট, বিএনপিপন্থী সিনিয়র শিক্ষকদের বঞ্চনার অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহাল থাকলেও বিএনপিপন্থী, অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকদের পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

শিক্ষক সমাজের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসনিক পদায়ন এবং প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে এসব অধ্যক্ষ বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। এতে শিক্ষাঙ্গনে ভারসাম্য ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী,

চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মুজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলেজটির উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একই প্রতিষ্ঠানে বহাল রয়েছেন।

অন্যদিকে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ বেনুআরা বেগমকে ঘিরেও রয়েছে নানা আলোচনা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তার পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তার স্বামী জসিম খান জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তার ভাই মোহাম্মদ ইউনুস সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কীভাবে একই পদে বহাল রয়েছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজা খান হেলালির বিরুদ্ধেও জামায়াতপন্থী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি জামায়াতের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। একইভাবে সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নঈমের বিরুদ্ধেও জামায়াতঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার পরিবারের সদস্যরাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

এদিকে সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম হাওলাদারের বিরুদ্ধেও ছাত্রলীগ রাজনীতির অতীত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি পটুয়াখালী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন।

শিক্ষক সমাজের একটি অংশের অভিযোগ, এসব বিতর্কিত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলেও প্রকৃত যোগ্য, অভিজ্ঞ ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর দিলরুবা আক্তার চৌধুরী ও প্রফেসর সরোয়ার জামান খানের মতো শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত না হলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত এসব অভিযোগ তদন্ত করে যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা সচিব এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক ও সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *