কামরুল ইসলাম:
চন্দনাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ারের দিক নির্দেশনা মোতাবেক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সাহসী ও চৌকষ ক্যাডেট পুলিশ অফিসার এসআই মোঃ শরিফুল ইসলাম নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স রাত ১৯:৩০ ঘটিকায় চন্দনাইশ পৌরসভা ০৮নং ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে মক্কা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন মেসার্স আমিন মোটরস শোরুমের সামনে ফাঁকা স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় হানিফ স্টার প্রাইভেট লিমিটেড বাস থেকে ধৃত হন ইমাম হোসেন (৫৮)। তার হেফাজত থেকে ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার নাম ইমাম হোসেন, পিতা-মৃত আব্দুর রহমান। তিনি কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার পশ্চিম মরিচ্যা, গুরা মিয়া গ্যারেজের পাশে, ০১নং ওয়ার্ড, ইউপি-হলুদিয়া পালং এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃত আসামী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল এবং নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বেচাকেনা করতেন।
চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি গোলাম সরোয়ার বলেন, “মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে আমরা ধাপে ধাপে কঠোর অভিযান চালাচ্ছি। সাধারণ জনগণ যেন মাদকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এই ধরণের অভিযানের মাধ্যমে মাদক পাচারকারী চক্র ভেঙে দেওয়া হবে। আমরা চাই জনগণ মাদক সেবন বা ব্যবসায় জড়িত না হোক।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআই মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের চেকপোস্ট অভিযান পরিকল্পিতভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। ধৃত আসামীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, যা নির্দেশ করে এই চক্রটি বৃহৎ। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে আরও অভিযানের মাধ্যমে চন্দনাইশ এলাকা থেকে মাদক চক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারব।”
চন্দনাইশ থানার এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হলে তাদের এলাকা মাদকমুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও, জনগণকে মাদক সেবন ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।