কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাবের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সাতটি মামলার পলাতক দুর্ধর্ষ আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আরও এক আসামিকেও আটক করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় দস্যুতা, সন্ত্রাস ও ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাননীয় উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), সিএমপি, চট্টগ্রামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চকবাজার জোনের তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব। অভিযানে অংশ নেন থানার এসআই মোঃ জাকের হোসেন, এসআই মোঃ সোহরাব হোসেন, এসআই আল আমিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামি নেজাম উদ্দিন প্রকাশ নিজাম উদ্দিন (৪২)। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগান এলাকার ২২৮ শুটকি পট্টির বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ নুরুল আমিন এবং মাতার নাম নুর বেগম।
পুলিশ জানায়, নেজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা চেষ্টা, মারধর, চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মোট সাতটি মামলা চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
২০১৪ সালের একটি হত্যা চেষ্টা ও চুরির মামলা, ২০১৬ সালের সংঘবদ্ধ হামলা ও ভাঙচুরের মামলা, ২০১৮ সালের মারধর ও দখল সংক্রান্ত মামলা, ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ হামলার মামলা, ২০২৫ সালের ডাকাতি মামলা এবং ২০২৬ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা। এছাড়া ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দায়ের হওয়া আরেকটি মামলাও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, পৃথক আরেকটি অভিযানে কোতোয়ালী থানার এসআই শরীফ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মোঃ ভুট্টু মিয়া প্রকাশ জামাল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন হাজীপাড়া এলাকায় ভাসমান হিসেবে বসবাস করতেন।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে দস্যুতা, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার ফলে অপরাধীরা ধীরে ধীরে আইনের আওতায় আসছে।