মোঃআনজার শাহ :-
ছয়টি নিষ্পাপ প্রাণ। একই হাসপাতালে, একই দিনে। আকস্মিক মৃত্যু যার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত **আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল** করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
যেভাবে শুরু হয়েছিল এই ঘটনা,গত ২৭ মে একই দিনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সারা দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাবে তিনি সন্তুষ্ট নন এবং হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।
এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ -এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪ জুন হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
সময় বাড়িয়েও রক্ষা হলো না,৭ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাব না দিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেই আবেদন মঞ্জুর করে সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ৯ জুন হাসপাতালের পক্ষ থেকে যে জবাব ও ব্যাখ্যা পাঠানো হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পূর্ণ অসন্তোষজনক বিবেচিত হয়।
অবশেষে একই অধ্যাদেশের ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।
চিকিৎসাধীন রোগীরা কোথায় যাবেন?লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, চিকিৎসাধীন রোগীদের দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে এবং যেকোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে।
আপিলের সুযোগ রয়েছে ৩০ দিন,চিঠিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, একই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী **৩০ দিনের মধ্যে** সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
জবাবদিহির বার্তা,ছয়টি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের কান্না নয় এটি গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি একটি তীব্র প্রশ্নচিহ্ন। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, রোগীর জীবনের মূল্যের চেয়ে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নয়। এই পদক্ষেপ দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তাও বটে।