আশুলিয়ায় চুরির অপবাদে নির্যাতনের পর রিকশাচালকের আত্মহত্যা

আলমাস হোসাইন:

ঢাকার আশুলিয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে ডেকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের নামে মারধর ও অর্থদণ্ড দেওয়ার পর অপমান সইতে না পেরে এক রিকশাচালক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা হত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত আল আমিন (২২) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দেওয়ান টারটিয়া গ্রামের আলম সরকারের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়া এলাকার হাশেম কলোনিতে ভাড়া থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতের মা মাছুরা বেগম বাদী হয়ে গত বুধবার (১০ জুন) আশুলিয়া থানায় হত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জামগড়া এলাকা ও শরীফ মার্কেটসংলগ্ন একটি রিকশা গ্যারেজে আল আমিনকে চুরির অভিযোগে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। পরে একই স্থানে বসানো সালিশ বৈঠকে তার বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মারধর ও প্রকাশ্যে অপমানের পর আল আমিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে বাসায় ফিরে নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মো. কামাল হোসেন, তানভীর, সুমন, মো. আলম ও বিপ্লব মীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, লতিফ মোল্লার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকলেও তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

নিহতের মা মাছুরা বেগম বলেন, “আমার সামনেই ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। আমি বাধা দিলেও কেউ শোনেনি।”

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *