মো. আনজার শাহ,
ছাত্রজীবনে লেখাপড়াই মূল লক্ষ্য, রাজনীতি হবে তার পাশাপাশি। একই সঙ্গে সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রীর সহকারী সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর খোশবাস ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় বরুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোরশেদ রাজু, সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতারা এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ইউনিয়ন বিএনপির প্রয়াত নেতা সাবেক সভাপতি জয়নাল ও কামরানকে। তাঁদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁরা এ অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছেন। গত ১৭-১৮ বছরে তাঁরা অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আজকের সুদিনে তাঁদের পাশে পাওয়া গেল না, এ আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করে মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল বলেন, একসময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সভা করতে হয়েছে বাগানের আড়ালে লুকিয়ে। কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আসার খবরে অনুষ্ঠান মাঝপথে থামাতে হয়েছে, কখনো আবার বাজি ফাটিয়ে ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। তবু দমে যাননি নেতাকর্মীরা। দলের অভিভাবকের নির্দেশনায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাঁরা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। এমন সপ্তাহও গেছে, যখন প্রতিদিন চার-পাঁচটি কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ৯০-এর দশকে তাঁরা যখন ছাত্রদল করেছেন, তখন পরিবার কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। অভিভাবকেরা মনে করতেন, সন্তান পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতি করছে, তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণ আছে। কিন্তু গত ১৭-১৮ বছরে রাজনীতিকে এমনভাবে কলুষিত করা হয়েছে যে অভিভাবকেরা এক অজানা ভয়ে সন্তানদের রাজনীতিতে পাঠাতে চাইতেন না। “আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমরা প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছি, নিঃশ্বাস নিতে পারছি, নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষে দাঁড়াতে পারছি,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারার কথা উল্লেখ করে তিনি ছাত্রদলের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। ইউনিয়নভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য তিনি সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান। আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্যমাত্রা প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপরই বর্তায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও সমর্থককে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন তোমাদের পড়াশোনার বয়স। শুধু রাজনীতি করলেই জীবন চলে যাবে, এটা ঠিক নয়। ছাত্রজীবনের মূল কাজ লেখাপড়া। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে সময় বের করে নিও। কিন্তু কোনোভাবেই মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না।”
সমাজে মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন মাদকাসক্ত সন্তান পরিবার, সমাজ ও গ্রামের জন্য বোঝা। তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এ ব্যাধি রুখতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকে জড়িতদের বুঝিয়ে সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনতে হবে, আর যারা এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সমাজ থেকে মাদক সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করতে হবে।
সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান, প্রত্যেক কর্মী যেন আরও দুজন করে নতুন কর্মী বা সমর্থক তৈরির লক্ষ্য নেন। তাঁর হিসাবে, ইউনিয়নে ছাত্রদলের প্রায় ২০০ নেতাকর্মী রয়েছেন; প্রত্যেকে দুজন করে কর্মী তৈরি করলে স্বল্প সময়েই ৪০০ নতুন কর্মী যুক্ত করা সম্ভব। এভাবে প্রতিটি ঘরে একজন করে ছাত্রদল কর্মী এবং তারেক রহমানের আদর্শের একজন করে সৈনিক গড়ে তোলাই তাঁর প্রত্যাশা।