রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিনের ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে এবং আরও দুটি মেশিন যান্ত্রিকভাবে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার সাতবাড়িয়া ও চন্দনমাড়িয়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস সুমিত। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) সংরক্ষণ এবং অবৈধ পুকুর খনন রোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান এবং পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফসলি জমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাতের আঁধারে যাতে কেউ কৃষিজমি নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পর কিছু এলাকায় আবারও রাতের অন্ধকারে পুকুর খননের কাজ শুরু হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র নানা উপায়ে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কৃষিজমির মাটি কেটে পুকুর তৈরি করছে, যা এলাকার কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস সুমিত বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এরপরও কিছু এলাকায় গভীর রাতে পুকুর খননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক অভিযান নয়, অবৈধ পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, কৃষিজমি রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।