জমির বিরোধে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা, স্ত্রীর মামলায় আসামি ৫ জন

 

বরুড়া প্রতিনিধি ,

জমির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাতিজা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সিএনজিচালক সফিকুল ইসলাম (৪৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০) বরুড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

যেভাবে ঘটল সেই নৃশংস ঘটনা,মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার সময় বরুড়া থানাধীন ০৪নং খোশবাস (দক্ষিণ) ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বিবাদীরা বসতবাড়ির সীমানায় থাকা গাছপালা কাটতে শুরু করলে সফিকুল ইসলাম তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা দলবদ্ধভাবে বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। প্রধান আসামি রিয়ান হোসেন (১৯) সফিকুলের বুকের বাম পাশে সজোরে একাধিক ঘুষি মারে, যাতে সেখানে কালো-ফোলা ও রক্তজমাট বাঁধা মারাত্মক জখম তৈরি হয়। সফিকুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য আসামিরাও তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও প্রতিবেশী রোকছেনা বেগমকেও আসামিরা মারধর করে আহত করে। প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী জড়ো হলে আসামিরা খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে, তবু রক্ষা হলো না,সাক্ষীদের সহায়তায় গুরুতর আহত সফিকুলকে প্রথমে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরিবার ২ মে তাঁকে কুমিল্লার নাভানা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে চিকিৎসা মেলেনি। পরদিন ৩ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। একই দিন কুমিল্লা গোমতী হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সফিকুল ইসলাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আসামিরা সবাই আপনজন,মামলার এজাহারে উল্লেখিত পাঁচ আসামি হলেন  মোঃ রিয়ান হোসেন (১৯), কামরুল হাসান হৃদয় (২১), আনোয়ার হোসেন (৪৭), মোঃ খোকন মিয়া (৬০) ও স্বপন মিয়া (৫২)। এর মধ্যে রিয়ান ও হৃদয় নিহতের স্ত্রীর ভাতিজা এবং বাকি তিনজন চাচাতো ভাই সবাই একই বাড়িতে পাশাপাশি বসবাসকারী। দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা ও সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। সেই পুরনো ক্ষোভেরই করুণ পরিণতি ঘটল সেদিন।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম জানান, স্বামীর চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং আসামিদের পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সময় লাগায় থানায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বরুড়া থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *