রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর মোহনপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৬৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মীরের বিরুদ্ধে। আহত নুরজাহান বেগম বর্তমানে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের আতানারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নুরজাহান বেগম ওই গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের স্ত্রী।
আহতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির পাশের জমিতে গর্ত করে মাটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আনসার আলী মীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নুরজাহানের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর মেয়ে আফসানা জাহান রিনাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
আফসানা জাহান রিনা বলেন, তাঁদের জমিতে গর্ত করে জোরপূর্বক মাটি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁর মা নুরজাহান বাধা দিলে আনসার আলী মীর, তাঁর ভাই সিরাজুল ইসলাম ও স্ত্রী মোছা. লাবনী খাতুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁর মাকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। মাকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিও মারপিটের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনসার আলী মীর। তিনি বলেন, এটি মেয়েদের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা। ছোটখাটো হাতাহাতি হয়েছে। তিনি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং কাউকে মারধর করেননি। ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, একজন নারী তাঁকে ফোন করে মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনা যা-ই ঘটুক, ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। সভাপতি হিসেবে তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। দলীয় বিষয়ে উপজেলা বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।