স্পোর্টস ডেস্ক:
জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ উইকেট। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল টাইগারদের হাতে। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে আফগানিস্তানের ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়েছে। এতে হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
পঞ্চম দিনের খেলা শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। বড় লক্ষ্য সামনে থাকায় শুরু থেকেই ড্রয়ের লক্ষ্যে ধীরস্থির ব্যাটিং করেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।
একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও শুরুতে সাফল্য পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শেষ দিনে উইকেটে ফাটল দেখা গেলেও আবুধাবির পিচ থেকে প্রত্যাশামতো টার্ন আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের বোলিংয়ে আফগান ব্যাটারদের চাপে ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রচণ্ড গরমে ব্যাটিং করতে গিয়ে ক্র্যাম্পের কারণে প্রথম সেশনেই মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। তিনি ৩৩ বলে ২০ রান করেন।
লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে এবাদত হোসেনের খাটো লেংথের ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ইকরাম আলিখিল। বল ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে গেলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন উইকেটকিপার লিটন দাস। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম।
এরপর সেদিকুল্লাহ আতালের সঙ্গে জুটি গড়েন ইসমত আলম। দুজন মিলে যোগ করেন ৪০ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে তিনি করেন ৪ রান।
এরপর আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি। তবে এবারও উইকেট এনে দেন মিরাজ। তাঁর বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শহীদি। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন সেদিকুল্লাহ আতাল। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করে ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকেও ফিরতে হয় সাজঘরে।
আতাল আউট হওয়ার পরও আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র করে সফরকারীরা।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পান একটি করে উইকেট।
জয়ের খুব কাছে গিয়েও আফগানিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটারদের প্রতিরোধ ভাঙতে না পারায় ম্যাচটি ড্র হয়। ফলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে।