নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নয় তরুণকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে চিফ প্রসিকিউটর ছুটিতে থাকায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ছিল। পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। ফলে নতুন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করতে হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নয় তরুণ নিহত হন। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
এর আগে ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১-এ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম মামলার ঘটনাপ্রবাহ ও অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগীদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও আদালতকে জানানো হয়।
এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবারের শুনানিতে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। তারা পলাতক রয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়।
এখন আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির মাধ্যমে আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।