মোঃ বাদশা মিয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আলোচিত জিহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার কোট্টাপাড়া মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচির কারণে কিছু সময়ের জন্য দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে জিহাদ হত্যার বিচার দাবি করেন। তারা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে নিহতের পরিবার যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তেমনি এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কোনো প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যেন প্রকৃত অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনজুর কাদের ভূঁইয়া আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, জিহাদ হত্যা মামলার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। খুব শিগগিরই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ওসির এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, তারা বাস্তব অগ্রগতি দেখতে চান। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সরাইল সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, সমাজসেবক আনোয়ার মাস্টার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিকে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিহত জিহাদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়ে তারা অসহনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
মানববন্ধনের শেষদিকে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতি দ্রুত জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।