আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সদ্য সমাপ্ত জুন মাসজুড়ে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রুশ বাহিনীর অভিযানে ৩৮ হাজার ৩২৫ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে এ দাবি করেছেন রুশ সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রিয়ে মারোশ্কো।
গত ১ জুলাই এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মে মাসের তুলনায় জুনে নিহত ইউক্রেনীয় সেনার সংখ্যা ৭ হাজার ১৮০ জন বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির অন্যতম কারণ হলো অপর্যাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের মোতায়েন করা।
মারোশ্কো বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই লোকজনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। এতে তাদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রুশ সামরিক ড্রোনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি ইউক্রেনীয় সেনারাও স্বীকার করছে, ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, জুন মাসে জনবল ছাড়াও ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ হাজার ৩০০টি ড্রোন, ১২টি ট্যাংক, ৯টি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, ২৭০টি ফিল্ড আর্টিলারি, ১৫৫টি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও রাডার এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২ হাজার ৪০০টি সামরিক যান।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণসাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
তবে রাশিয়ার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: তাস