মো. মশিউর রহমান:
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর এক কর্মকর্তার নিজ উপজেলায় বদলিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিআরডিবির কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আকন্দকে তাঁর নিজ উপজেলা কালিহাতীতে বদলি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার নারিন্দা গ্রামের বাসিন্দা। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সাধারণত নিজ কর্মস্থল বা নিজ এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ কারণে তাঁর বদলিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিআরডিবির টাঙ্গাইল কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, মঈন উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘদিন টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর দায়িত্বকালে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ২ কোটিরও বেশি টাকা খেলাপি হয়েছে। এর ফলে পাঁচজন কর্মচারীর বেতন গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী আরও অভিযোগ করেন, মঈন উদ্দিন আকন্দ অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাঁদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেতেন না। এ ছাড়া, গত বছর তাঁর প্রভাবেই এক কর্মচারী ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এবং ওই কর্মচারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, সরকারদলীয় এক নেতার সুপারিশে তিনি নিজ উপজেলায় বদলি হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মঈন উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই আমার বদলি হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বদলি যদি প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা উচিত। আর যদি কোনো অনিয়ম বা নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।