Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
টাঙ্গাইলে ২০ গ্রামের মানুষের ৪ কোটি টাকার ব্রিজ কোনো কাজে আসছে না - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

টাঙ্গাইলে ২০ গ্রামের মানুষের ৪ কোটি টাকার ব্রিজ কোনো কাজে আসছে না

মোঃ মশিউর রহমান:

টাঙ্গাইলে তেবাড়িয়া-দপ্তিয়র রাস্তার ঘুনিপাড়া অংশে নির্মিত প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের ব্রিজে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন ২০ গ্রামের মানুষ। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব স্পষ্ট করেন, প্রকল্পটি কিছু সংশোধন করে পুনরায় রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। জানা যায়, জেলার নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের ঘুনিপাড়া গ্রামে ২০২৩ সালে এলজিইডির প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তিন বছর ধরে সেই সেতুর দুই পাশে গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় আব্দুর রশিদ জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগী আনা-নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় মানুষকে কাদা, পানি ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত গাইড ওয়াল ও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।

সলিমাবাদে ঘুনিপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে মানুষের যাতায়াতের কষ্ট দূর হবে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল ঘুনিপাড়াসহ ২০ গ্রামের মানুষের। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী তেবাড়িয়া-দপ্তিয়র রাস্তার ঘুনিপাড়ার পশ্চিম অংশে প্রায় তিন বছর আগে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসীর স্বপ্নও পূরণ হয়। কিন্তু সেই ব্রিজের ওপর দিয়ে আজও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না তারা। কথাগুলো শুনিয়েছেন ঘুনিপাড়া গ্রামের আমিনুর রহমান মিন্টু। এদিকে সলিমাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম পনু দাবি করেন, নাগরপুরে ব্রিজটি তিন বছর ধরে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্রিজের কাজ শেষ হলেও এটি মানুষের কোনো কাজে আসছে না। ব্রিজের দুপাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় শূন্যতার মধ্যে রয়েছে। এতে নিরাপদ ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয় মেম্বার জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়েনি। ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে কাজ করেন উপঠিকাদার (কন্ট্রাক্টর) রিপন। আর সেই উপঠিকাদার (কন্ট্রাক্টর) কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে উপঠিকাদার রিপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলতে বলেন। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন ভূঁইয়া জানান, ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্রিজের পাশেই হাট-বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে কোমরপানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব স্পষ্ট করেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন হয়নি। মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি কিছু সংশোধন করে পুনরায় রি-টেন্ডার দিয়ে সেতুর বাকি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *