অনলাইন ডেস্ক ::
দেশের সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতির চিত্র নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সর্বশেষ জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, সরকারি সেবা গ্রহণে ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার দিক থেকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পাসপোর্ট সেবা। এ খাতে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সেবা গ্রহণকারী পরিবারের ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, পাসপোর্ট সেবা গ্রহণে ঘুষ প্রদানের হার জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গ্রামাঞ্চলে এ হার ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ, আর শহরাঞ্চলে ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ঘুষের হার বিবেচনায় পাসপোর্ট অফিসের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ খাতে সেবা গ্রহণকারী পরিবারের ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, যেখানে ঘুষ প্রদানের হার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। একই হারে কৃষি খাতেও ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে ভূমি সেবায় ঘুষের হার ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট পরিবারের ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ অন্তত একটি সরকারি সেবা খাতে ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি সেবা গ্রহণে দুর্নীতি ও অনিয়ম এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নাগরিকদের জন্য সেবা সহজলভ্য ও জবাবদিহিমূলক করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে যেসব সেবা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেসব খাতে দুর্নীতির মাত্রা বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, কার্যকর নজরদারি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
টিআইবির এই জরিপ সরকারি সেবা খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির চিত্র নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকবান্ধব ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে দুর্নীতির ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।