কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক, অপহরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলাসহ মোট ২৮টি মামলার পলাতক আসামি ও ইউপি সদস্য নুরুল হুদাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রামে সাহসী ও চৌকস ক্যাডেট ওসি জায়েদ নুর-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার নুরুল হুদা হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশ বলছে, সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরে এসে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে যুক্ত হন বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “ইউপি সদস্য নুরুল হুদা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক পাচারকারী। টেকনাফে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন মাদক পাচারকারীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি মাদক, একটি অপহরণ, তিনটি অস্ত্র, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং চারটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলাসহ মোট ২৮টি মামলা রয়েছে।”
ওসি আরও জানান, শনিবার বিকেলে নুরুল হুদাকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নুরুল হুদা দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও এলাকায় পুনরায় সক্রিয় হয়ে অবস্থান নেওয়া এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার করা জরুরি ছিল।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) অলক বিশ্বাস বলেন, “সরকার মাদক ও মানব পাচার দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।”
টেকনাফ সীমান্ত অঞ্চলে মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।