ঠাকুরগাঁওয়ে প্যাকেটজাত দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে দেওয়া প্যাকেটজাত দুধ পান করে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুধ খাওয়ার পরপরই তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনেকের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পর কয়েকজনের পেটব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে অনেকে বমি করতে থাকে। কয়েকজন বিদ্যালয়ের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের দাবি, দুধের স্বাদ তিতা ও অস্বাভাবিক ছিল। দুধ পান করার পরপরই তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। বিষয়টি তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, দুধ খাওয়ার পর থেকেই তাদের পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকেই বিদ্যালয়ে বমি করেছে। দুধটি তিতা লাগছিল এবং নষ্ট হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছিল।

আরেক শিক্ষার্থী জানায়, দুধের স্বাদ ভালো না লাগার কথা তারা শিক্ষকদের জানিয়েছিল। এরপরও দুধ খাওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের খবর দেয়। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে তাদের সন্তানদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নষ্ট দুধ দেওয়া হয়েছে। এর কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিভাবকেরা।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের বমি ও পেটের পীড়া রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, দুধ খাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা এর স্বাদ টক লাগছে বলে জানায়। পরে প্যাকেট খুলে দেখা যায়, দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে নিষেধ করার আগেই অনেকে দুধ খেয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তারা এ দুধ পান করেনি। দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুধ পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিক ছিল। তবে ভেতরের দুধ নষ্ট হয়ে গেছে কি না, তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। দুধ পান করে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় খাবার বিতরণের দায়িত্বে থাকা আবু হেলাল বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ১২২টি প্যাকেট দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সরবরাহ করা দুধ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ তারা সার্বিক তদারকি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *