নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। একই সঙ্গে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে পরিবহন ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়ও এতে বাড়তে পারে। তাই সরকারের উচিত জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণ রাজপথে আরও বড় আন্দোলনে নামতে পারে বলেও তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। তার দাবি, কয়েক দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনগণের ওপর ভোগান্তির বোঝা বাড়ছে। তিনি অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে সরকারকে এর জবাবদিহি করতে হবে। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতিটি জ্বালানি পণ্যের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।