Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
ডিম-চিনির দামে অস্বস্তি, কমেছে পেঁয়াজ-রসুন-আদার দাম - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

ডিম-চিনির দামে অস্বস্তি, কমেছে পেঁয়াজ-রসুন-আদার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রায় এক মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম চড়া। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এর মধ্যে নতুন করে বেড়েছে চিনি, আটা ও ময়দার দাম। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে মোড়কজাত চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

তবে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তিও রয়েছে। কমেছে পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

চড়া ডিমের বাজার

বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক হালি ডিম কিনতে কোথাও ৫৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সে হিসাবে চারটি ডিম কিনলে ডজনপ্রতি দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা। তবে একসঙ্গে এক ডজন কিনলে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিম ও মুরগির দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশের অনেক লেয়ার খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে খামারে ডিম ও মুরগির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

সরবরাহ কমায় বাড়ছে চিনির দাম

বাজারে খোলা চিনির সরবরাহও কমেছে। রাজধানীর অনেক দোকানে খোলা চিনি পাওয়া গেলেও অধিকাংশ দোকানে নেই মোড়কজাত চিনি।

মুগদা বাজারে অন্তত সাতটি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দুটি দোকানে মোড়কজাত এবং পাঁচটি দোকানে খোলা চিনি রয়েছে। বেশির ভাগ দোকানে খোলা চিনি ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে দাম নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

এর আগে গত সপ্তাহে খোলা চিনির দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও চিনির দাম বেড়েছে।

মুগদা বাজারের ভাই-ভাই জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী লিয়াকত হোসেন বলেন, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা চিনি কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে।

প্যাকেট চিনি না পেয়ে খোলা চিনি

চিনির সরবরাহ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারাও। মানিকনগর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আজমল হোসেন বলেন, এক প্যাকেট চিনি কিনতে তাকে তিনটি দোকান ঘুরতে হয়েছে। কোথাও প্যাকেটজাত চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনেছেন তিনি।

তার দাবি, গত মাসের তুলনায় একই চিনির জন্য এখন কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলেই খুচরা বাজারে দাম এতটা বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই বাজারের একটি দোকানে প্যাকেটজাত চিনি না থাকায় এক ক্রেতার জন্য পাশের দোকান থেকে খোলা চিনি এনে দেন বিক্রেতা। তিনি জানান, প্যাকেটজাত চিনির নির্ধারিত দাম ১১০ টাকা হলেও পাশের দোকান থেকে খোলা চিনি কিনতে হয়েছে ১১৫ টাকায়। ফলে ক্রেতাকে ধরে রাখতে কেজিতে ৫ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।

বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে মোড়কজাত আটার দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম

নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে।

রসুন ও আদার দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে দেশি রসুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে

বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম এখন কেজিতে ১০০ টাকার নিচে। করলা, কাঁকরোল, বেগুন ও কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। তবে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি। এসব পণ্য ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *