চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগে নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এডিস মশার বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
শনিবার (২৭ জুন) চসিকের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুরক্ষা’র উদ্যোগে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলে আয়োজিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধবিষয়ক র্যালি ও নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, উন্নতমানের লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে প্রায় ৯ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় এবং মারা যান ৭৮ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৮ জনে, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ২ হাজার ৬২২ জন এবং প্রাণ হারান ৮ জন। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ১০৭ জন, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
মেয়র বলেন, এই সাফল্য আশাব্যঞ্জক হলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোথাও এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাগরিক সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সভা শেষে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।