তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে স্বস্তিতে খালেদা জিয়া

স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:  

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন পর সন্তানের দেশে ফেরার আশ্বাস তাঁর মানসিক অবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন দলীয় ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন তাঁর পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ তথ্য তিনি পান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, যখন তিনি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ছিলেন। প্রায় এক মাস ধরে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে জানান, “চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরার খবরে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তিবোধ করছেন।” তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যে এই খবর খালেদা জিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখনও সিসিইউতেই আছেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থায় আপাতত কোনো অবনতি হয়নি, যা চিকিৎসকদের মতে একটি ভালো লক্ষণ। তিনি বলেন, “আরও কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে তাঁকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

মেডিকেল বোর্ডের আরেক সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার শরীরে গুরুতর ইনফেকশন থাকায় উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, তিনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন এবং ওষুধে সাড়া দিচ্ছেন, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক দিক।

এদিকে, গত শুক্রবার বিকেলে এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, “গত এক মাসের মধ্যে এখন খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গত ২৭ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮০ বছর। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দেশি ও বিদেশি প্রায় ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডটি প্রতিদিন বৈঠক করে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে শুধু খালেদা জিয়াই নন, বিএনপির নেতাকর্মীরাও মানসিকভাবে চাঙ্গা বোধ করছেন। তবে চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার বিষয়টি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীলতা ও পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক খবর—এই দুই মিলিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় আপাতত কিছুটা আশার আলো দেখছেন তাঁর চিকিৎসক ও দলীয় নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *