তেলেঙ্গানায় ছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রভাষক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের তেলেঙ্গানায় অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ২০ বছর বয়সী এক প্রকৌশল শিক্ষার্থীকে জোর করে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তদন্তে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত তরুণীর নাম থান্দ্রা অক্ষিতারানি। ডিপ্লোমা পড়ার সময় নাসপুরের সিঙ্গারেনি কলিয়ারিজ পলিটেকনিকে চুক্তিভিত্তিক প্রভাষক নবীন কুমারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে খনিবিদ্যায় ডিগ্রি নিতে হায়দরাবাদে চলে যান অক্ষিতারানি। সেখানে সিঙ্গারেনির একটি খনিতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সময় রবি কুমারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পুলিশের দাবি, অক্ষিতারানি নবীন কুমারের কাছ থেকে দূরে সরে রবি কুমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নবীন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে তিনি অক্ষিতারানি ও রবি কুমারের ওপর ক্ষোভ পোষণ করতে থাকেন।

পেদ্দাপল্লির উপপুলিশ কমিশনার বি রাম রেড্ডি বলেন, নবীন অক্ষিতারানি তার কাছ থেকে দূরে সরে রবি কুমারের ঘনিষ্ঠ হওয়া মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি দুজনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরার পথে এফসিআই মোড়ের কাছে অক্ষিতারানিকে আটকে গাড়িতে তুলে নেন নবীন। এরপর রবি কুমারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি নোট লিখতে তাকে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে জোর করে কীটনাশক খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশ আরও জানায়, কীটনাশক খাওয়ার পর অক্ষিতারানি অসুস্থ হয়ে পড়লেও নবীন তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাননি। পরে অক্ষিতারানির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

১২ সেপ্টেম্বর অক্ষিতারানিকে গোদাভারিখানি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রথমে পুলিশ আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা করলেও পরবর্তী তদন্তে ঘটনার ভিন্ন চিত্র সামনে আসে।

তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, কলের তথ্য ও কল রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নবীন কুমারকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর নবীন কুমার (৩৮) ও সিঙ্গারেনির ওভারম্যান রবি কুমারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি গাড়ি ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে অক্ষিতারানি রবি কুমারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। তবে রবি কুমারের স্ত্রী অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, রবি কুমারকে ভুলভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সিঙ্গারেনির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *