মোঃ আনজার শাহ :
দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ) দেশজুড়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরু।
তিনি বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি গঠনের প্রত্যয়ে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন কাজ করছে। প্রান্তিক ও অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
সম্প্রতি শেরপুর জেলার সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকরা বিএনএফের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরুর সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ফাউন্ডেশনের চলমান কার্যক্রম, দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে চেয়ারম্যান বাদরু বলেন, সহযোগী সংস্থাসমূহ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্জিত সুনাম আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশন ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে। প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যে অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা যেন যথাযথভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সহযোগী সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরুকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে একটি সম্মাননাস্মারক বা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত নির্বাহী পরিচালকরা চেয়ারম্যানের প্রতি তাঁদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলাপচারিতায় সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রধান নির্বাহীরা জানান, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের দেওয়া অনুদানের প্রতিটি অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে ব্যবহার করে তাঁরা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।
তাঁরা জানান, গাভি পালন, ছাগল বিতরণ, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক নিরাময় এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে অসচ্ছল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব আয়ের পথ তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
সহযোগী সংস্থার নির্বাহীরা বলেন, একজন দরিদ্র মানুষ যখন গাভি বা ছাগল পালনের মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পান, তখন তাঁর পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়। একইভাবে স্যানিটেশন, মাদক নিরাময় ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তাঁদের মতে, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরতা ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি করাই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় পরিচালিত এসব প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সাক্ষাৎ শেষে সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রধান নির্বাহীরা বিএনএফের চেয়ারম্যান খোন্দকার মোঃ মোরতাজুল করিম বাদরুর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তাঁরা বলেন, ভবিষ্যতে ফাউন্ডেশন ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা, আস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং এর সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যাবে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক উন্নয়নের চলমান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে দেশের বিপুলসংখ্যক অসচ্ছল মানুষ নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন:
সৌজন্য সাক্ষাতে শেরপুর জেলার নিম্নোক্ত সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন:
১. সেন্টার ফর অ্যাডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ক্যাপ)
২. সেবা পরিষদ (এসপি)
৩. সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা
৪. সুনীতি সংঘ
৫. স্বনির্ভর নারী কল্যাণ সংস্থা
৬. পল্লী উন্নয়ন সংস্থা
৭. ভোরের আলো মহিলা সংস্থা
৮. মহিলা ও শিশু পুনর্বাসন সংস্থা
৯. দিশারী পৌর পল্লী সংস্থা
১০. গ্রামীণ কল্যাণ সংস্থা
১১. অভীষ্ট গণ উন্নয়ন সংস্থা
১২. এক্স-সোলজার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
১৩. আইডিএ
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন এবং শেরপুর জেলার সহযোগী সংস্থাসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।