আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের প্রভাব এবার ছড়িয়ে পড়েছে মুম্বাইয়েও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই নির্দেশনা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মুম্বাইয়ে একসঙ্গে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ করায় প্রায় ৯০০ জনের বিরুদ্ধে আটটি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে আরও তীব্র হচ্ছে আন্দোলন
অন্যদিকে রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ব্যানারে চলমান এ আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলনের পরিধিও দিন দিন বাড়ছে।
পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) গঠন করা হবে।
মোদি লেখেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
দিল্লিতে আন্দোলন তীব্র হওয়ার পাশাপাশি মুম্বাইয়ে সমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নফাঁস ইস্যু এখন জাতীয় পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি