এ আর সুমন:
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানানো ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য, এ নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় বিধানের দৃষ্টিকোণ থেকে নানা মত রয়েছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। কেউ এটিকে সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের শুভেচ্ছা জানানোর বিধান নিয়ে কিছু মানুষের প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মুমতাহিনার ৮ নম্বর আয়াতে যারা ধর্মের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না এবং তাদের আবাসস্থল থেকে বিতাড়িত করে না, তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে নিষেধ করা হয়নি।
তবে অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একদল আলেম সামাজিক সৌজন্য ও সম্প্রীতির উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগের কথা বলেন। অন্যদিকে, কিছু আলেম ধর্মীয় উৎসবের স্বাতন্ত্র্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় এ ধরনের শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দেন।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, ইসলাম শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। উগ্রবাদ কিংবা হিংসা-প্রতিহিংসার কোনো স্থান ইসলামে নেই। তাঁর মতে, দেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর নৈতিক দায়িত্ব।
ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে শুভেচ্ছার ভাষা, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যা জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতামত গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব রয়েছে।
অষ্টগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো, ধর্মীয় বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া।
সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস—এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানানোর বিধান নিয়ে আলোচনায় নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন মতের যথাযথ উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।