কে এম তৈয়ব আলী হীরা:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাজারে পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও দোকানঘর জবরদখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নির্মাণমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের নাম ভাঙিয়ে একটি অসাধু চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে সম্পত্তির নামজারি (খারিজ) কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, ভূমি অফিসে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বৈধ মালিকানার ভিত্তিতে তারা সম্পত্তিটি ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে নির্মিত দোকানঘর ভাড়া দিয়ে তারা নিয়মিতভাবে ভোগদখল বজায় রেখেছেন। সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জুর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা সম্পত্তির নামজারি করতে উদ্যোগ নিলে একটি মহল এতে বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি ভাড়া দেওয়া দোকানঘরগুলো জবরদখলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই দলিল নম্বর-১৯৫৮ মূলে মোহন পাল রাজভর ও তার স্ত্রী বেহলী রাজভর ওয়ারিশসূত্রে মালিক হয়ে ওই জমির কিছু অংশ আ. জব্বার ডাক্তারের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশসূত্রে মালিক হন মো. তোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম এবং আ. রহিম।
পরে ২০০৫ সালের ২৩ জুন সাব-কাবলা দলিল নম্বর-৪৮২৭ মূলে ধনবাড়ী বাজারের ভেতরের ৩ শতাংশ জমি ধনবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর কাছে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। জমি ক্রয়ের পর তিনি বৈধভাবে মালিকানা লাভ করেন এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তির রেকর্ড নিজ নামে অন্তর্ভুক্ত করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ক্রয়কৃত ৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১.৫০ শতাংশ জমি স্থানীয় নির্মাণমিস্ত্রি শ্রমিক অফিসের জন্য দলিল করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডের চূড়ান্ত খতিয়ান নম্বর-৩৪৫৬ এবং হাল দাগ নম্বর-৪৮০১-এ সম্পত্তির রেকর্ড করা হয়। শ্রমিক অফিসের অংশে নামজারি করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করে তা ভোগদখলে রয়েছে।
অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১.৫০ শতাংশ জমিতে সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জু দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানঘরগুলো তার পরিবারের দখলে রয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো ভাড়া দেওয়া অবস্থায় রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাবেক মেয়র বদিউল আলম মঞ্জুর অকালমৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা নিজেদের ভোগদখলে থাকা ১.৫০ শতাংশ সম্পত্তির নামজারি (খারিজ) করার জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার (নায়েব) কার্যালয় থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ইতিবাচক প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
তবে নামজারি কার্যক্রমের এই পর্যায়ে এসে নির্মাণ শ্রমিক অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তি ওই সম্পত্তির ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভূমি অফিসে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নামজারি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে তাদের ভাড়া দেওয়া দোকানঘরগুলো জবরদখলেরও চেষ্টা চলছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্পত্তির বৈধ কাগজপত্র ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল থাকা সত্ত্বেও একটি মহল রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছে। এতে একদিকে যেমন নামজারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দোকানঘর ও সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে মরহুম বদিউল আলম মঞ্জুর ছেলে শাহারিয়ার আলম শিবলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বাবার বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে আমাদের দোকান রয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া আছে। বাবার মৃত্যুর পর আমরা ওয়ারিশরা ওই সম্পত্তির নামজারির আবেদন করলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন অপকৌশল ব্যবহার করে আমাদের দোকান বেদখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সচেতন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার দাদা এ দেশের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন এবং বাবা ছিলেন ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র। সমাজে আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করার এই হীন চক্রান্তের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
শাহারিয়ার আলম শিবলু বলেন, তাদের পরিবারের বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তির কাগজপত্র রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। নামজারি কার্যক্রমও নিয়ম অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখল নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নামজারি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তার না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সম্পত্তি নিয়ে কোনো পক্ষের দাবি থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু কোনোভাবেই জবরদখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উচিত নয়।