কে. এম. তৈয়ব আলী-হীরা:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কেরামজানী গ্রামের এক সন্তানের জননী আছিয়া (২০) দুই বছরের শিশু সন্তানের পিতৃপরিচয় ও পিতৃস্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী ইস্পিঞ্জারপুর গ্রামের ধনাঢ্য ছানোয়ার হোসেনের পুত্র, এবতেদায়ী মক্তবের শিক্ষক সোলাইমান হোসেন (২৮) দিনমজুর দুলাল মিয়ার কন্যা আছিয়ার ওপর কুনজর দেন এবং বিবাহ করে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলে নেওয়ার প্রলোভনে মেলামেশা শুরু করেন। একপর্যায়ে আছিয়া অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যান।
বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে গ্রাম্য হিতৈষী গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ জঘন্য ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত সোলাইমানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দায় ঢাকতে অভিযুক্ত সোলাইমান আছিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর আছিয়া সোলাইমানের ঘরে ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে হয়।
বারবার সংক্রমণ (ইনফেকশন) হওয়ার কারণে আছিয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন। তবে খোঁজ নেননি সোলাইমান।
চরম হতাশা নিয়ে দুই বছরের শিশুর পিতৃপরিচয়ের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলার ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি সি আর মামলা দায়ের করেছেন। টাঙ্গাইলের ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি নজরে নিয়ে উভয় পক্ষকে গ্রামে বসে মীমাংসা করার জন্য এক মাসের সময় দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সোলাইমানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও দেওয়া হয়েছে।
আরও জানা গেছে, সোলাইমান সালিশে বসতে নারাজ। অপরদিকে আছিয়া আইনি সহায়তা পেলে সত্যের পথে লড়ে যাবেন।