ক্রীড়া প্রতিবেদক:
চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গেল দুই আসরে আর্থিক লোকসানসহ নানা অনিয়ম ও জটিলতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাইছে না বোর্ড। সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে একটি কার্যকর মডেল তৈরির পর বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
বিপিএল নিয়ে আগামীকাল (রোববার) বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ক্রিকেটাররা। এর আগে শনিবার বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন গেল আসরের তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি—রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্সের মালিকপক্ষ।
বৈঠক শেষে বিসিবির সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তারা। তারা জানান, বিপিএল আয়োজনের ধারাবাহিকতা চান তারা। তবে আগের মতো দুর্বল কাঠামোয় টুর্নামেন্ট আয়োজন না করে নতুন ও কার্যকর মডেল তৈরিতে বিসিবিকে সময় দেওয়ার পক্ষপাতী তারা।
রংপুর রাইডার্সের সিইও ইসতিয়াক সাদেক বলেন, বাজারের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু নামমাত্র বিপিএল আয়োজন করে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে ভালো একটি মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘শুধু নামমাত্র বিপিএল করে প্রতিশ্রুতি দিলাম ৩০ লাখ টাকা দেব, কিন্তু খেলোয়াড়কে শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা দিলাম না, ফোন ধরলাম না, হারিয়ে গেলাম—এর চেয়ে বরং একটু সময় নিয়ে ভালো কোনো একটি মডেলে করাটাই ভালো।’
গত আসরের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার কথাও জানান তিনি। ইসতিয়াক সাদেক বলেন, ‘জানুয়ারি মাস পার হয়ে আজ প্রায় সাত-আট মাস চলছে। আমাদের এখনো কিছু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিক দেওয়া বাকি। কারণ, আমাদের সঙ্গে যেসব পৃষ্ঠপোষক চুক্তি করেছিল, তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেনি।’
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদ বলেন, বিসিবি নতুন মডেল তৈরির জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছে। নতুন কাঠামো এলে তারা বিপিএলে থাকতে চান।
তিনি বলেন, ‘শেষ দুই বছরে যেভাবে বিপিএল হয়েছে, এবারও সেভাবে হলে আমরা থাকব না। কারণ, গালি আমরা বেশি খাই। বিপিএলে নতুন মডেল এলে আমরা থাকতে চাইব।’
আতিক ফাহাদ আরও বলেন, বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন বিপিএল অবশ্যই হবে, তবে এর মান বাড়াতে সময় প্রয়োজন। নতুন মডেল তৈরির জন্য তামিম ইকবাল সময় চেয়েছেন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাকে সেই সময় দিতে রাজি।
গেলবারের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সিইও মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, ‘অবশ্যই আমরা মাঠে বিপিএল চাই। লিগের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। তবে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলোর সমাধানও করতে হবে। এমন একটি ভালো মডেল তৈরি করা দরকার, যাতে বিসিবি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও খেলোয়াড়—সবারই লাভ হয়।’
তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা বিপিএল বন্ধ চান না। বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতাটিকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করতে নতুন কাঠামো তৈরির পক্ষে। এ জন্য বিসিবিকে প্রয়োজনীয় সময় দিতেও তারা প্রস্তুত।