নাউরু নয়, এবার ‘নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হতে চায় দ্বীপরাষ্ট্রটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নিজেদের দেশের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন ওশেনিয়ার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে দেশটি ‘নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং। তিনি বলেন, দেশের পুরোনো ও নিজেদের মধ্যে প্রচলিত নাম পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়ের একটি অংশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আদিয়াংয়ের ভাষায়, এই নাম পরিবর্তন অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো উদ্যোগ নয়; বরং নিজেদের পরিচয়কে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার একটি পদক্ষেপ। ভাষণের শেষে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, ‘আমাদের নাম উচ্চারণ করো।’

নাম পরিবর্তনের আগে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, একটি জাতির জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে হয় তারা আসলে সবসময় কারা ছিল। নাউরুর জন্য এখন তেমন একটি মুহূর্ত এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট আদিয়াং জানান, ‘নাউরু’ ও ‘নাওয়েরো’ মূলত একই নামের ভিন্ন রূপ হলেও বানান ও উচ্চারণের পার্থক্য তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে নাউরু নামটি ব্যবহৃত হলেও দেশটির জনগণ নিজেদের মধ্যে ‘নাওয়েরো’ নামটি ব্যবহার করে আসছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় আট বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস। ঔপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ সময় পার করে ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে নাউরু।

দেশটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় এবং আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোড ‘NRU’ পরিবর্তন করে ‘NRO’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নামের সঙ্গে নাগরিকদের পরিচয়বাচক নামেও পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশে এতদিন দেশটির নাম সাধারণত ‘নাও-রু’ উচ্চারণ করা হলেও নতুন নামটি ‘নাও-এরো’ হিসেবে উচ্চারণ করার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

আধুনিকায়ন, নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুদ্ধার এবং ঔপনিবেশিক সময়ের নাম থেকে সরে আসার মতো বিভিন্ন কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশ অতীতে নিজেদের নাম পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে এসোয়াতিনি করা হয়। জিম্বাবুয়ে, বেনিন, থাইল্যান্ড, তুর্কিয়ে, ইরান, মিয়ানমার, বুরকিনা ফাসো, ঘানা ও শ্রীলঙ্কার নামও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত বা সংশোধিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *