মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ইজি বাইকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের নাম মমিন (৩০)। তিনি ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় জালাল মিয়ার ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে চারজন যুবক মমিনকে মৃত অবস্থায় তার বাড়িতে নিয়ে আসে। এসময় স্থানীয়রা দেখতে পান মমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী ওই চার যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের দাবি, মমিনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেধরক পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মমিন প্রতিদিনের মতো সকালেই বাড়ি থেকে ইজি বাইক নিয়ে বের হয়েছিলেন। বিকেলের দিকে তারা খবর পান, মমিনকে মারধর করা হয়েছে। পরে তার মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের দাবি, মমিনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তার শরীরে একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নিহত মমিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।” তিনি আরও জানান, “ইসদাইর এলাকার একটি ইজি বাইক গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে পঞ্চবটি এলাকায় যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলেন, মমিন একজন পরিশ্রমী যুবক ছিলেন, নিজের পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক ও ক্ষুব্ধ। অনেকেই প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন— যাতে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটন করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দোষীদের কেউই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার কর্মকর্তারা।