মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী, ব্যুরো চিফ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া চানমারি এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ট্যাক্সি ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের ড্রাইভারদের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও ট্যাক্সি–মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, চানমারি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সেই বিরোধ নতুন করে উত্তেজনায় রূপ নেয়। খবর পেয়ে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড শ্রমিক দলের সভাপতি হারুন মিয়া ফোন করে এড. টিপুকে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ জানান। হারুন মিয়ার ফোন পেয়ে টিপু দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তিনি সেখানে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান দস্তা–দস্তি থামানোর চেষ্টা করেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করে মীমাংসার আহ্বান জানান। তিনি দুই দলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সবাইকে থামানোর আহ্বান জানানোর এক পর্যায়ে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত আজমিরী ওসমানের অনুসারী ফারুক নামের এক ব্যক্তি তার প্রতি অশালীন আচরণ করে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফারুক দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের ভেতরে একটি ঘর দখল করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। স্ট্যান্ডের অন্য ড্রাইভাররা তার এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং তাকে স্ট্যান্ড থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে একাধিকবার প্রতিবাদ করেছে।
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। এ সময় উপস্থিত কেউ একজন পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। ভিডিওটি বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে বোঝানো হয় যে, এড. টিপুকে হেয় করা হয়েছে বা তিনি সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। আমি সেখানে গিয়েছিলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দুই পক্ষকে শান্ত করতে। কিন্তু একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি বিকৃতভাবে প্রচার করেছে।” তিনি আরও বলেন, ফারুক নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার পেছনে কিছু আওয়ামী দোসর ইন্ধন দিচ্ছে, যেন এই স্ট্যান্ডটি আবারও দখল করতে পারে। পরিকল্পিতভাবেই তারা বারবার সংঘর্ষ সৃষ্টি করে পরিবেশ অস্থির করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুকের সহযোগী হিসেবে হাসান, রুবেল, ইলিয়াস, রবি, রাজু, বাঁধন, জুলহাস ও শামীমসহ আরও কয়েকজন নিয়মিতভাবে স্ট্যান্ডের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে যুক্ত রয়েছে। তারা নানা সময় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক গুপ্ত মিছিলে অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজদের দমন করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। না হলে এই স্ট্যান্ড এলাকায় শান্তি ফিরবে না। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা।