মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে জেলা পর্যায়ে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও উপসচিব নিলুফা ইয়াসমিন।
সভাটির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প’। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের চলমান কার্যক্রম, মামলা নিষ্পত্তির অগ্রগতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, গ্রাম আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের ওপর চাপ কমছে, অন্যদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “গ্রাম আদালত হচ্ছে জনগণের দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলে গ্রাম আদালত ব্যবস্থার প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে।”
সভাপতির বক্তব্যে নিলুফা ইয়াসমিন গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।