অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নাশকতার ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও তল্লাশি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধরন ও কৌশল বিশ্লেষণ করে নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলো টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
সূত্রের দাবি, নাশকতাকারীরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এসব এলাকায় দ্রুত ঘটনা ঘটিয়ে সরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ কারণে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো, খিলগাঁও, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলোর পর ডিএমপি রাজধানীতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রেলস্টেশন, রেলপথ, গণপরিবহণ এবং কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি রেলপথ ও রেলস্টেশন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজধানীর বাইরে ফরিদপুরেও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঘটনার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে ঢাকার সাভারে একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলায় নাম থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আপত্তিও উঠেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, নাশকতার ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি রাজধানী ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।